1. admin@nayaalo.com : Ashrafhabib :
  2. nayaalo.com@gmail.com : News Desk : News Desk
ভৈরবে সরকারি ও কবরস্থানের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ! - Nayaalo
শিরোনাম
ভৈরবে সরকারি ও কবরস্থানের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ! ডিবি প্রধান হলেন কিশোরগঞ্জের মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। ভৈরব সরকারি চাকরিজীবী ঐক্য পরিষদের বার্ষিক সভায় পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত গোলাম মোস্তফা, নতুন সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ তপন ভৈরবে ইউনাইটেড হাসপাতালে নার্সের রহস্যজনক মৃত্যু,স্বজনদের দাবী পরিকল্পিত হত্যা! ইতালি প্রবাসী মোবারক হোসেনের পক্ষ থেকে ভৈরবে নগদ অর্থ প্রদান। বন্যার্তদের পাশে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ। ভৈরবে বিশ্ব রক্ত দাতা দিবসে র‌্যালী আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত। ভৈরব-কুলিয়ারচরে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা ভৈরবে কেন্দ্রীয় যুব কমান্ড এর সভাপতি নজরুল বেপারীর জন্মদিন পালিত। ভৈরবে নানা আয়োজনে যায়যায়দিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত।

ভৈরবে সরকারি ও কবরস্থানের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ!

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৩৫ জন দেখেছেন

 

আশরাফুল আলম:
কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের ঝগড়ারচর ও কুমিরমারা গ্রামে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়কের সরকারি রাস্তার বেশ কিছু গাছ ও ঝগড়ারচর ও কুমিরমারা গ্রামের কবরস্থানের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্থানীয় ইউপি সদস্য বরজু মেম্বার ও হাজী হেলাল উদ্দিন এর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে পশ্চিম নয়াহাটি গ্রামের মৃত অহেদ মিয়ার পুত্র আক্তার মিয়া নামে একজন বাদী হয়ে, গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ইং বৃহস্পতিবার সকালে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঝগড়ারচর ও কুমিরমারা গ্রামের কবরস্থান ও জানাজার মাঠ এবং আঞ্চলিক সড়কের রাস্তার পাশে সরকারী প্রায় ১২০টি আম,জাম,কাটাল,বদিরাজ,মেহগনি,তুলা,পাহাড়ি নিম গাছ নিধন করিয়া কবরস্থান ও জানাজা নামাজের মাঠ পরিবেশ ও মানুষের শোভা বর্ধন করেছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি মেম্বার বরজু মিয়া (৫৮),পিতা-মৃত লাল চান ও স্থানীয় প্রভাবশালী হাজী মোঃ হেলু মিয়া (৬০) পিতা-মৃত আবু বেপারী, আশকর আলী (৪০) পিতা-বরজু মিয়া, জসিম উদ্দিন (৩৭) পিতা- বরজু মিয়া, ওয়াসিম (২৫) পিতা-বরজু মিয়া, বলপূর্বক পরস্পরের সহযোগিতায় কবরস্থান ও জানাজা নামাজের মাঠ হইতে এবং রাস্তার পাশ হইতে সরকারি প্রায় ১২০ টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গাছ কাটিয়া নিয়ে যায়। তাহারা কবরস্থান ও জানাজা নামাজের মাঠ পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসীকে গাছ কাটিয়া নিয়া যাওয়ার বিষয়ে কোনো সম্মতি কিংবা অনুমতি না নিয়ে তাহারা বাজারে ও বিভিন্ন স’মিলে গাছ বিক্রি করিয়া টাকা আত্মসাৎ করিয়াছেন বলে অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামের অনেকে বলেন, “সরকারি ও দেশের সম্পদ সাবেক জনপ্রতিনিধি রক্ষা করবে কিন্তু তা না করে তারাই ভক্ষণ করছে। আমরা চাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হোক এবং গাছ যারা কেটেছে তাদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হোক। শাস্তি দেখে আর যেন কেউ এরকম কাজ করার সাহস না পায়।”
তারা আরো বলেন, ৬টি গ্রামের মানুষকে এখানে দাফন করা হয়। যুগ যুগ ধরে বেশ কিছু গাছ ছায়া দিয়ে আসছে।

সম্প্রতি কবরস্থানের কমিটিকে না জানিয়ে শতবর্ষী আম,জাম,কাটাল,বদিরাজ,মেহগনি,তুলা,পাহাড়ি নিম গাছ সহ কবরস্থানে গাছের অংশ লোকচক্ষুর আড়ালে সাবেক মেম্বার বরজু মিয়া ও হাজী হেলাল উদ্দিন বিক্রয় করেছেন।
প্রশাসন সহ দায়িত্বশীলদের কাছে অনতিবিলম্বে সাবেক মেম্বার বরজু মিয়া ও হেলাল উদ্দিন গংদের বিচারের দাবী করছেন। শতবর্ষী ফলজ গাছ ও অন্যান্য গাছের অংশ বিশেষ কমিটিকে না জানিয়ে কর্তন করা ঠিক হয়নি। কারন কবরস্থানের যে কোন সম্পদ হস্তান্তর করতে হলে আগে রেজুলেশন করতে হবে। সামান্য ভাটি গাছ কাটা হলেও প্রকাশ্য নিলাম হয়েছে কিন্তু বর্তমানে একতরফাভাবে এখানকার গাছগুলো কেটে ট্রাকে করে গাছ বিক্রয় করছে, বিক্রয়ের অর্থ কোথায় যাচ্ছে কমিটি জানেনা।
অভিযোগকারী আক্তার মিয়া জানান, শতবর্ষী ফলজ গাছের নিচে মানুষ জানাযা পড়তে এসে ছায়া নেয় কিন্তু সেই গাছ গুলো কেটে প্রকাশ্যে পরিবহন যোগে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। এর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি গত ২২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন বরাবরে অভিযোগ দিয়ে এসেছি এবং উক্ত অভিযোগের অনুলিপি পত্র দিয়েছি, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, অফিসার ইনচার্জ ভৈরব থানা,সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ভৈরব প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ক্লাব ও ইউনিটির কাছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি।
এব্যাপারে ঝগড়ারচর ও কুমিরমারা গ্রামের কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুস সালাম বলেন, কবরস্থানের গাছ কাটার বিষয়ে আমি অবগত নয়। আমার সাথে কোনো পরামর্শ কিংবা অনুমতি না নিয়ে এরকম কাজ করায় আমি ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
এব্যাপারে কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাফি উদ্দিন বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে তাকে এলাকার সাবেক ইউপি মেম্বার বরজু মিয়া ও হাজী হেলাল উদ্দিন আমাকে বলেছেন ডাকের মাধ্যমে নাকি ৭২ হাজার টাকা মূল্যের কিছু গাছ কবরস্থান উন্নয়নের জন্য কেটেছে তবে ১০ লক্ষ টাকার গাছ কাটার বিষয়ে তিনি অবগত নয়।
এব্যাপারে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি মেম্বার বরজু মিয়া বলেন, কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য আমি কিছু গাছ কেটেছি এবং এলাকাবাসীর কাছ থেকে নগদ অর্থও নিয়েছি। উক্ত টাকা দিয়ে কবরস্থানের উন্নয়ন কাজ চলছে। তাছাড়া আমি কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। ১০ লক্ষ টাকার গাছ আমি কাটেনি আমি যা কেটেছি এর চেয়ে বেশী নতুন চারা গাছ রুপন করেছি। আমি রাস্তার পাশের সরকারী গাছ কাটেনি।
এব্যাপারে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিকুর রহমান সবুজ বলেন, উক্ত বিষয়ে আমার কাছে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পশ্চিম নয়াহাটি গ্রামের মৃত অহেদ মিয়ার পুত্র আক্তার মিয়া নামে একজন বাদী হয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন,আমি সরেজমিনে তদন্তপূর্ব প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করবো।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর...
© All rights reserved © 2022 নায়াআলো ডটকম
Developed By HM.SHAMSUDDIN