1. admin@nayaalo.com : Ashrafhabib :
  2. nayaalo.com@gmail.com : News Desk : News Desk
স্বামী সন্তান হারিয়ে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া আমেনা এখনও ক্ষুধার তাড়নায় ভিক্ষার ঝুলি বয়ে বেড়ায়! - Nayaalo
শিরোনাম
ভৈরবে সরকারি ও কবরস্থানের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ! ডিবি প্রধান হলেন কিশোরগঞ্জের মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। ভৈরব সরকারি চাকরিজীবী ঐক্য পরিষদের বার্ষিক সভায় পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত গোলাম মোস্তফা, নতুন সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ তপন ভৈরবে ইউনাইটেড হাসপাতালে নার্সের রহস্যজনক মৃত্যু,স্বজনদের দাবী পরিকল্পিত হত্যা! ইতালি প্রবাসী মোবারক হোসেনের পক্ষ থেকে ভৈরবে নগদ অর্থ প্রদান। বন্যার্তদের পাশে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ। ভৈরবে বিশ্ব রক্ত দাতা দিবসে র‌্যালী আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত। ভৈরব-কুলিয়ারচরে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা ভৈরবে কেন্দ্রীয় যুব কমান্ড এর সভাপতি নজরুল বেপারীর জন্মদিন পালিত। ভৈরবে নানা আয়োজনে যায়যায়দিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত।

স্বামী সন্তান হারিয়ে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া আমেনা এখনও ক্ষুধার তাড়নায় ভিক্ষার ঝুলি বয়ে বেড়ায়!

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ১৭০ জন দেখেছেন

জামশেদ আলী,স্টাফ রিপোর্টার:

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর ফকির হাঁটি গ্রামের বয়সের ভারে নুয়ে পড়া আমিনা খাতুন এখন আর ভিক্ষার ঝুলি বয়ে বেড়াতে সক্ষম নয়। তবুও ক্ষুধার জ্বালায় বাধ্য হয়ে ভিক্ষার ঝুলি বয়ে বেড়ায়। তার বর্তমান বয়স জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী অনুযায়ী ৬৭ বছর। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর পূর্বে তিনি তার স্বামীকে হারান।
স্বামীর মৃত্যুর সময় ছেলের বয়স ৪বছর আর মেয়ের বয়স মাত্র ২বছর।
অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে শোকাহত আমেনা খাতুন সন্তান সন্ততিকে একচিলতে পিতৃ ভিটায় আশ্রয়ে রাখার তাগিদে কষ্ট করে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করেই সন্তানদের নিয়ে খেয়ে বাঁচার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন ।
ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করানোর মতো সুযোগ মিলেনি অভাবের তাড়নায়। একমাত্র আদরের ছেলেকে খাবারের অভাবে পেটে ভাতে অর্থাৎ ভাতের অভাবে দক্ষিন হাঁটির হাফিজ উদ্দিনের ঘরে দীর্ঘ কয়েক বছর ছেলেকে কাজে দিয়ে রেখেছিলেন। নাবালক রুছমত আলীকে অল্প বয়সেই ছুটে বেড়াতে হয়েছে রুজির সন্ধানে আর মায়ের একান্ত ইচ্ছায় সুখের আশায় সাবালক হতে না হতেই বিয়ে দেন পর্যায়ক্রে তিন কন্যা এবং এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন রুছমত আলী। বিধিবাম গত ছয় বছর পূর্বে মাঠে কাজের সময় বজ্রপাতে আমেনা তার একমাত্র উপার্জনকারী সেই ছেলেকেও হারান।

স্বামী হারানোর ব্যাথা বয়ে বেড়ানো সেই আমেনা একমাত্র পুত্র হারিয়ে অধিকতর শোকাহত।
উপার্জনের ক্ষমতা হারিয়ে সংসারে পাঁচটি মানুষের আহার যোগানো তখন অসাধ্য হয়ে পড়ে বয়োঃবৃদ্ধ আমেনার।
পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে একমাত্র নাতি তানজিদকেও জীবিকা নির্বাহের জন্য ঢাকার একটি প্লাষ্টিকের কোম্পানিতে শিশু শ্রম বিক্রি করার তাগিদ দেন।
তানজিদের মা কান্না করে বলতে লাগলেন অভাবের কারণে ছেলেটাকে পড়াশোনা করাতে পারিনি তাই বাধ্য হয়ে ছেলেটাকে ঢাকায় কাজে দিয়ে দিয়েছি। মেয়েদেরকে একটুখানি চেষ্টা করছি পড়াশোনা করানোর। টাকার অভাবে আমরা খুব কষ্টে আছি। তাছাড়া তিনি আরো বলেন, আমি এবং শাশুড়ি কেউ এখন পর্যন্ত কোন বিধবা ভাতার কার্ডের ব্যবস্তা করতে পারিনি। এমনকি সরকারিভাবে অন্য কোন সাহায্য সহযোগিতাও পাইনি।
এছাড়া শাশুড়িরও সারাবছর অসুখ বিসুখ লেগেই থাকে আর আমার নিজেরও বাবা ছোট বেলায় মারা গেছেন, মাও ঢাকায় বাসায় বাসায় কাজ করে কোন রকম খেয়ে বেঁচে আছেন। দেশে মাও আসেননি কারন ছাতিরচর গ্রামেও মায়ের থাকার মতো কোন বাসস্থান নেই।

আঠার বাড়িয়া গ্রামের পল্লি চিকিৎসক ও ফার্মেসির মালিক নজরুল ইসলাম এই পরিবার সম্পর্কে বলেন, আমেনা নামের এই বৃদ্ধ মহিলাটির সংসারে খুব অভাব কিন্তু তিনি হাঁপানি রোগী তার প্রতিমাসে কমপক্ষে আমার এখান থেকেই ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার ঔষধ কিনে নেয়।

বৃদ্ধ আয়েশার সাথে কথা বলার সময় দেখা যাচ্ছে তার শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ঠাণ্ডা জনিত সমস্যায় তার গলাটাও বসে গেছে। তার সীমাহীন ভোগান্তির বিষয়টা বুঝিয়ে বলতে না পারাটা যেন তাকে ভীষণ পীড়া দিচ্ছে তবুও বারবার সমস্যার কথা বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করে চলেছে।
বয়সের ভাড়ে নুয়ে পড়া আর পুষ্ট হীনতায় ভোগা মানুষটি আজ ভিক্ষার ঝুলি বয়ে না বেড়ালে পেটে জুটবে না আহার, জুটবে না ঔষধের টাকা, বাঁচ্ছাদের খাবারের অভাবে মুখে ফুটবে না হাঁসি, তার নাতনিদের মুখে হাসি ফোটানো আর পড়াশোনা করানোর চেষ্টারও তার কোন কমতি নেই।
সরকারিভাবে সাম্প্রতিক পাচ্ছেন শুধু বয়স্ক ভাতার সুবিধা যা ছয় সদস্যের সংসারে চাহিদার তুলনায় অতি নগণ্য।
পার্শ্ববর্তী সাবেক জনপ্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু মিয়া বলেন, আমেনা খাতুনের সংসারে সদস্যদের সংখ্যা ৫জন, একমাত্র উপার্জনশীল রুছমত আলীও বজ্রপাতে মারা যাওয়ার পর তার সংসারে খুব অভাব চলছে, বাচ্চাদের পড়াশোনা ও ভরণপোষণে দায়িত্ব পালনে হীমসিম খেতে হচ্ছে।

জারইতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন আফরোজ সাহেব নিকটে কোন সহযোগিতার কোন সুযোগ আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন , আপাতত কোন সুযোগ আমার হাতে নাই।

আমেনা খাতুনের ভাষ্যমতে তার আকুল মিনতি সরকার এবং সমাজের বিত্তশালী যদি একটুখানি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে তার পরিবারটি দারিদ্রের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর...
© All rights reserved © 2022 নায়াআলো ডটকম
Developed By HM.SHAMSUDDIN