1. admin@nayaalo.com : Ashrafhabib :
  2. nayaalo.com@gmail.com : News Desk : News Desk
সর্বহারা নিয়াশার পরিবার আজ দুবেলা খেয়ে বাঁচতে চায়! - Nayaalo
শিরোনাম
ভৈরবে সরকারি ও কবরস্থানের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ! ডিবি প্রধান হলেন কিশোরগঞ্জের মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। ভৈরব সরকারি চাকরিজীবী ঐক্য পরিষদের বার্ষিক সভায় পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত গোলাম মোস্তফা, নতুন সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ তপন ভৈরবে ইউনাইটেড হাসপাতালে নার্সের রহস্যজনক মৃত্যু,স্বজনদের দাবী পরিকল্পিত হত্যা! ইতালি প্রবাসী মোবারক হোসেনের পক্ষ থেকে ভৈরবে নগদ অর্থ প্রদান। বন্যার্তদের পাশে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ। ভৈরবে বিশ্ব রক্ত দাতা দিবসে র‌্যালী আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত। ভৈরব-কুলিয়ারচরে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা ভৈরবে কেন্দ্রীয় যুব কমান্ড এর সভাপতি নজরুল বেপারীর জন্মদিন পালিত। ভৈরবে নানা আয়োজনে যায়যায়দিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত।

সর্বহারা নিয়াশার পরিবার আজ দুবেলা খেয়ে বাঁচতে চায়!

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ১৪৪ জন দেখেছেন

 

জামশেদ আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার আঠার বাড়ীয়া গ্রামের সদ্য প্রয়াত নিয়াশু মিয়ার ভুমিহীন, নীড়হারা পরিবার আজ অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।পরিবারটির দেখভালের আজ কেউ নেই বললেই চলে। প্রত্যক্ষদর্শী আর প্রতিবেশীদের ধারনা মতে, যে কোন মুহুর্তে অপমৃত্যুর সম্ভাবনা নিয়াশুর এই পরিবারের সদস্যদেরকে ঘীরে।
নিয়াশু ছিল পিতা-মাতার ছয় সন্তানের প্রথম পুত্র সন্তান। সন্তান বেঁচে থাকার সন্দিহানে মা-বাবা নাম দিয়েছিল নিরাশা।লোকজন নিয়াশু বলেই ডাকতো। পরিতাপের বিষয় ছোট্ট বেলায় অর্ধ পাগল বাবাকে হয়ায় আর মাও অতি কষ্টে অনাহারে অর্ধাহারে পুষ্টিহীনতায় ভুগে সংসারের মায়া ত্যাগ করে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল। সীমাহীন কষ্টের মধ্যে দিয়ে অবুঝ ভাই বোনদের নিয়ে সংসারের গ্লানি টানতে গিয়ে একপর্যায়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়ে একমাত্র উপার্জনশীল নিয়াশু নির্ভর এই যৌথ পরিবার। অতিরিক্ত সুখের আশায় নিয়াশুও ফেলুদা নামের এক এতিম মেয়েকে বিয়ে করে ইয়াসমিন ও জেসমিন নামক দুই কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। এরি মধ্যে তার ছোট মেয়ে জেসমিন বিকলাঙ্গ। অভাব যেন তার পরিবারের নিত্য সঙ্গী। বেঁচে থাকার স্বপ্ন আশাটা নিরাশায় থেকে গেল নিরাশার এই ছোট্ট জীবনে। অভাবের তাড়নায় পড়াশোনার সুযোগ মিলেনি এই পরিবারের কোন সদস্যের বরং জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি বিক্রি করে সাবালক হতে না হতেই একেকজনকে আশ্রয় নিতে হয়েছে একেক শহরের একেক অলিতে গলিতে আর দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে অসুস্থ নিয়াশুকে ঢাকা এবং চট্রগ্রাম শহরে দীর্ঘদিন রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছে। শহরমুখী সেই সুখটুকুও যেন তার কপালে স্থায়ী হয় নাই। অসুস্থতায় কর্মক্ষম হয়ে পুনরায় নিজ এলাকায় একটুখানি শান্তির আশায় স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে চলে আসেন এবং পিতার খবরস্থানের উপর অন্যের একটি ছোট দোচালা ঘরেই পিতৃভূমিতে আশ্রয় নেয় স্বামী-স্ত্রী ও বিকলাঙ্গ মেয়েটি। বড় মেয়েটিকে কোন এক ভদ্রলোকের সাহায্যের উচিলায় শহরমুখী কেটে খাওয়া একটি ছেলের সাথে বিয়ে দেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে সুখের সন্ধানে বয়ে বেড়ানো নিয়াশু অবহেলিত অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় একপর্যায়ে পরিবারের মায়া ছেড়ে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে একাকী পরপারে চলে গেলেন।


এখন সেই পরিবারের আর্তনাদ শুনার কেউ নেই। বিকলাঙ্গ মেয়েটির মা এ প্রতিবেদকের দিকে তাকিয়ে চোখের জল ফেলে কাঁদতে লাগলো আর আর্তনাদে বলতে লাগলো “খোদার কাছে জানিনা কি এতো বড় পাপ করছি অল্প বয়সে, পিতা-মাতাকে হায়েছি, স্বামী হারিয়েছি, আমার মেয়েটিও ব্যাক্কল, বোবা কোন কথাও বলতে পারেনা, ভালভাবে চলাফেরা করতে পারে না এছাড়া কোন একটা পুত্র সন্তানও খোদা দিলো না। জীবনে ভালো কিছু আশা করতে পারি না। কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে আরও বলতে লাগলো, মেয়েটিকে নিয়ে গাঁয়ে ভিক্ষা করতে যাওয়ারও সু্যোগ আমার নাই আর ঘরে বন্দী করেও রাখতে পারি না। অন্ধ হলেও ভালো ছিল গ্রামে গ্রামে সাথে নিয়ে ভিক্ষা করে চারটা ডাল ভাত খেয়ে বাঁচতাম, এখন যে আমার কি অবস্থা হবে একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন! সপ্তাহে গরুর হাটের দিন কিছু টাকা রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষা করে পাই তাতে মা মেয়ের চিকিৎসাতো দূরের কথা পেটভরে দুইবেলা খাবারও জুটে না। এই অবস্থায় খাবারের খুঁজে না পারি বাড়িতে মেয়েটিকে একা রাইখা যাইতে, না পারি সাথে নিতে যাইতে। রাক্ষসী পেটতো ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে পারে না। এই শীতের মধ্যে আরো বেশি কষ্টে আছি। তাছাড়া যে কোন দিন ঘরের মালিক আইলে (আসলেই)এখান থেকেও বিদায় নিতে হবে।
কষ্টের কথাগুলো বলতে বলতে ফিরুজার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো আর বাহিরে কুড়িয়ে আনা শুকনো পাতালতা ও খরকুটার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো বৃষ্টির মৌসুমে চুলা এবং লাকড়ি ভিজে যায়, শুকনো লাকড়ি টুকাইয়া(সংগ্রহে) আনাও তখন অনেক কঠিন যার ফলে অনেক সময় পাকের অভাবে খাওয়া হয় না কারণ অন্যের ঘরের ভেতরে লাকড়ি দিয়ে পাক করাও নিষেধ। আমার ব্যাক্কল মেয়েটা সমস্যা বুঝার বুদ্ধি (জ্ঞান) নাই। তখন খুব কান্নাকাটি করে। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলছে এমন সময় তার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসলো আর বলতে লাগলো ‘খোদা আমাকে এই সব কষ্ট দেখার জন্য কেন বাঁচিয়ে রাখলো” আমিতো পঙ্গু সন্তানের হলেও মা, আমি কি না খাওয়াইয়ে সন্তানকে মারতে পারি!
শুধু মানুষের কাছে খবর পাই সরকার নাকি যাদের বাড়িঘর নাই তাদের ঘরবাড়ি দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করে কিন্তু আমি ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেও পাইনি! আমার থেকে (চেয়ে) আর কেডা (কে) বেশি গরিব আছে এই দেশে আর কারা আমার চেয়ে বেশি কষ্টে আছে? কত মানুষের কাছে গেলাম, সবাই শুধু আশা দেয়, কেউ সাহায্য করে না। স্বামী হারা হয়েছি প্রায় চৌদ্দ মাস। একমাত্র প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া অন্য কোন সাহায্য আমি পাইনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গতকাল রবিবার মেয়েটির মা খাবারের সন্ধানে বাহিরে যেতে না যেতেই পুকুরের পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল আর প্রতিবেশী রাকিব নামের এক যুবক অজ্ঞান অবস্থায় পানি হতে উদ্ধার করেন। এই বিষয়ে রাকিবের সাথে কথা বললে রাকিব আক্ষেপ করে বলেন, আমি না থাকলে সেদিন নিশ্চিত মেয়েটির মৃত্যু হতো। তাদের কষ্ট বিবেচনায় রাকিব বলেন, ঘরে বসে থাকলেতো তাদের পেটের আহার জুটবে না তাই মেয়েটার মাকে খাবারের জন্য বাহিরে যেতেই হয় আর বাহিরে একা রেখে গেলেও বিপদ। ইতিপূর্বে আরোও দুইবার পানিতে ডুবে গিয়েছিল কিন্তু মানুষের উসিলায় খোদা বাঁচিয়ে রেখেছেন। রাকিব আরো বলেন, সমাজের বিত্তশালীদের এসব অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো উচিত কারন খাবারের অভাবে মানুষ মারা যাবে এটা সভ্য সমাজে শোভা পায় না।
প্রতিবেশী নিয়াজ আলীর ভাষ্যমতে, খাবারের অভাবে প্রায়ই শুনি মেয়েটি অস্বাভাবিক কণ্ঠে চেঁচামেচি করে, মাও সারাক্ষণ মেয়েটির পাশে বসে কান্নাকাটি করে। মাঝে মাঝে মাঝ রাতে তাদের কষ্টের মায়া কান্নায় আশপাশের লোকজনের ঘুম ভেঙ্গে যায়। আশপাশের লোকজন সামর্থ্য অনুযায়ী সহায্যের চেষ্টা করে তবে তাদের অসুখ বিসুখ আর প্রয়োজনের তুলনায় তা নগণ্য।
এই বিষয়ে জারইতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন আফরোজ সাহেবের সাথে নিয়াশুর পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হলে তিনি বলেন, ভুমিহীন ও অসহায়দের জন্য বর্তমানে আমার হাতে কোন সুযোগ নেই।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর...
© All rights reserved © 2022 নায়াআলো ডটকম
Developed By HM.SHAMSUDDIN