1. admin@nayaalo.com : Ashrafhabib :
  2. nayaalo.com@gmail.com : News Desk : News Desk
সিলেট রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। - Nayaalo
শিরোনাম
ভৈরবে সরকারি ও কবরস্থানের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ! ডিবি প্রধান হলেন কিশোরগঞ্জের মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। ভৈরব সরকারি চাকরিজীবী ঐক্য পরিষদের বার্ষিক সভায় পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত গোলাম মোস্তফা, নতুন সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ তপন ভৈরবে ইউনাইটেড হাসপাতালে নার্সের রহস্যজনক মৃত্যু,স্বজনদের দাবী পরিকল্পিত হত্যা! ইতালি প্রবাসী মোবারক হোসেনের পক্ষ থেকে ভৈরবে নগদ অর্থ প্রদান। বন্যার্তদের পাশে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ। ভৈরবে বিশ্ব রক্ত দাতা দিবসে র‌্যালী আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত। ভৈরব-কুলিয়ারচরে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা ভৈরবে কেন্দ্রীয় যুব কমান্ড এর সভাপতি নজরুল বেপারীর জন্মদিন পালিত। ভৈরবে নানা আয়োজনে যায়যায়দিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত।

সিলেট রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট।

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৫৮ জন দেখেছেন

 

অনলাইন ডেস্ক:
সিলেট রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট (Ratargul Swamp Forest)। এটি সিলেট জেলা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। রাতারগুল বনটি প্রায় ৩০,৩২৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এই বিস্তৃর্ণ এলাকার ৫০৪ একর জায়গায় রয়েছে বন আর বাকি জায়গা ছোট বড় জলাশয়ে পূর্ণ। তবে বর্ষায় পুরো এলাকাটিকেই দেখতে একই রকম মনে হয়। রাতারগুল ‘সিলেটের সুন্দরবন’ নামে খ্যাত। রাতারগুল জলাবন বছরে চার থেকে পাঁচ মাস পানির নিচে তলিয়ে থাকে। তখন জলে ডুবে থাকা বনের গাছগুলো দেখতে সমগ্র বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা এসে ভিড় জমায়। অনেক পর্যটক রাতারগুলকে ‘বাংলাদেশের আমাজন’ হিসাবে অভিহিত করেন। বর্ষায় গাছের ডালে দেখা মিলে নানান প্রজাতির পাখি, আবার তখন কিছু বন্যপ্রাণীও আশ্রয় নেয় গাছের ডালে। এছাড়া শীতকালে রাতারগুলের জলাশয়ে বসে হাজারো অতিথি পাখির মেলা। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর (বর্ষার শেষের দিকে) পর্যন্ত রাতারগুল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

রাতারগুল একটি প্রাকৃতিক বন, স্থানীয় বন বিভাগ এখানে হিজল, বরুণ, করচ সহ বেশ কিছু গাছ রোপণ করেন। এছাড়াও এখানে চোখে পড়ে কদম, জালিবেত, অর্জুনসহ প্রায় ২৫ প্রজাতির জলসহিষ্ণু গাছপালা। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বন বিভাগ রাতারগুল বনের ৫০৪ একর জায়গাকে বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে।

যেভাবে রাতারগুল যাবেন:
ঢাকার গাবতলী, ফকিরাপুল এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সিলেটগামী বাসগুলো ছেড়ে যায়৷ গ্রীন লাইন, সৌদিয়া, এস আলম, শ্যামলি, এনা প্রভৃতি পরিবহনের এসি বাসের জনপ্রতি টিকেটের মূল্য বাস ভেদে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। আর নন-এসি বাসের জনপ্রতি টিকেটের মূল্য ৪৭০ থেকে ৬০০ টাকা।

ঢাকা থেকে ট্রেনে করে সিলেট যেতে কমলাপুর কিংবা বিমান বন্দর রেলওয়ে স্টেশান হতে উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত অথবা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনকে বেছে নিতে পারেন আপনার ভ্রমণ সঙ্গী হিসাবে।

চট্টগ্রাম থেকেও ট্রেনে সিলেট যেতে পারবেন, পাহাড়িকা এবং উদয়ন এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে।
ঢাকা থেকে সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ও সাচ্ছন্দে যেতে আকাশ পথকে বেছে নিতে পারেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ, রিজেন্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার, নভো এয়ার এবং ইউএস বাংলা এয়ারের বিমান ঢাকা-সিলেট আকাশপথে চলাচল করে।

সিলেট থেকে রাতারগুল যাওয়ার উপায়:
সিলেট থেকে দুই ভাবে রাতারগুল আসা যায়। সিলেট শহরের পাশের খাদিম চা বাগান ও খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের ভেতরের রাস্তা দিয়ে খুব অল্প সময়ে রাতারগুল পৌঁছানো যায়। এই পথে সিএনজি অটোরিকশা কিংবা জিপ নিয়ে শ্রীঙ্গি ব্রিজ যেতে হয়। সিলেট থেকে সকালে রাতারগুল গিয়ে বিকেলের মধ্যেই ফিরে আসা যায়। তাই সারাদিনের জন্য সিএনজি কিংবা অটোরিকশার ভাড়া ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা লাগবে। সারাদিন সিএনজি ভাড়া নিলে প্রায় একই ভাড়ায় বিছনাকান্দিও ঘুরে আসতে পারবেন। যদি সিলেটের আম্বরখানা থেকে লোকাল সিএনজি চড়ে যেতে চান তবে শ্রীঙ্গি ব্রিজ পর্যন্ত আসতে জনপ্রতি ১০০ টাকা ভাড়া লাগবে। সিএনজি রিজার্ভ করতে অবশ্যই দামাদামি করে নিন। শ্রীঙ্গি ব্রিজ থেকে রাতারগুল জঙ্গলে ঢুকার জন্য জেলেদের ছোট ছোট নৌকা পাবেন। একটি ছোট নৌকায় ৪-৫ জন চড়া যায়। এমন একটি নৌকার ভাড়া ৮৫০ টাকা। রাতারগুলে লাইফ জ্যাকেট, ছাতা এবং মাঝির হ্যাট ইত্যাদি ভাড়া পাওয়া যায়।

রাতারগুল যাওয়ার দ্বিতীয় পথে সিলেট হতে জাফলং গামী গাড়িতে গিয়ে সারিঘাট নামতে হবে। সিলেট থেকে সারিঘাট আসার লোকাল ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সারিঘাট হতে সিএনজিতে করে গোয়াইনঘাট বাজারে এসে নৌকা দিয়ে রাতারগুল যেতে হবে। তবে এ পথে সময় বেশি লাগে।

এছাড়া সিলেটের বন্দর বাজার পয়েন্ট থেকে সিএনজি যোগে সাহেব বাজার হয়ে মটরঘাট পৌঁছে ডিঙ্গি নৌকা ভাড়া করে রাতারগুল জলাবনে চলে যেতে পারবেন।

মনে রাখা জরুরী, যে পথেই রাতারগুল আসেন না কেন বনের ভেতরে ঢুকতে গেলে জেলেদের ছোট নৌকা ভাড়া নিতে হবে। একটি নৌকায় সর্বোচ্চ ৪-৫ জন বসা যায়।

কোথায় থাকবেন:
লালা বাজার এলাকায় ও দরগা রোডে কম ভাড়ায় অনেক মানসম্মত আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউস আছে৷ যেখানে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিভিন্ন ধরণের রুম পাবেন। এছাড়া হোটেল হিল টাউন, গুলশান, দরগা গেইট, সুরমা,কায়কোবাদ ইত্যাদি হোটেলে আপনার প্রয়োজন ও সামর্থ অনুযায়ী থাকতে পারবেন।

ভালো সার্ভিসের আবাসিক হোটেলের মধ্যে আছে হোটেল হলি গেইট, হলি ইন, লা ভিস্তা হোটেল, পানসি ইন, হোটেল মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল, ব্রিটানিয়া হোটেল, ইত্যাদি। এসব হোটেলে থাকতে খরচ হবে ২,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত। লাক্সারী হোটেল ও রিসোর্টের মধ্যে আছে নিরভানা ইন, হোটেল নূরজাহান গ্র্যান্ড, রোজ ভিউ হোটেল, নাজিমগর রিসোর্ট, গ্র্যান্ড প্যালেস সহ আরও কিছু হোটেল। প্রতি রাতের জন্যে খরচ হবে ৮,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত।

রাতারগুল ভ্রমণে সাবধানতা:
বর্ষায় বন ডুবে যাওয়ার পর সাপ সাধারণত বিভিন্ন গাছের ডালে আশ্রয় নেয়, এই বিষয়ে সতর্ক থাকুন। এছাড়া এখানে জোঁকের উপদ্রবও আছে। যদি সাঁতার জানা না থাকে তবে লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখুন। প্রয়োজনে ছাতা ও রেইনকোট নিয়ে নিন।

সিলেটের আরও দর্শনীয় স্থান:
রাতারগুল ভ্রমণ ছাড়াও আশেপাশে জনপ্রিয় পর্যটন স্থান গুলো হলো বিছনাকান্দি, জাফলং, লোভাছড়া, লালাখাল ও হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার ইত্যাদি।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর...
© All rights reserved © 2022 নায়াআলো ডটকম
Developed By HM.SHAMSUDDIN