মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

ভৈরবের মত একটি উপজেলায় কতজন সাংবাদিকের প্রয়োজন?

  • আপডেট : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০
  • ৩০৯ বার পড়া হয়েছে

দেশে প্রচারবহুল জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা কত। বড়জোর ২০ টি দৈনিক। আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার অভাব নেই। প্রতিটি জেলায় আঞ্চলিক পত্রিকা রয়েছে।আঞ্চলিক পত্রিকার প্রচার সংখ্যা খুব বেশী নয়। জাতীয় প্রচারবহুল দৈনিকগুলির প্রতিটি জেলায় একজন এবং প্রায় উপজেলায় ( সব উপজেলা নয়) একজন করে সংবাদদাতা থাকে। এসব সংবাদদাতাগন কম বেশী মাসিক বেতন বা সন্মানী পেয়ে থাকে। আন্ডারগ্রাউন্ড দৈনিক বা সাপ্তাহিকগুলির কর্তৃপক্ষ বেতন বা সন্মানী দেয়ার চিন্তাও করেনা। তাদের অনেকেই টাকার বিনিময়ে আইডি কার্ড দিয়ে দেয় সংবাদদাতাদেরকে। আইডি কার্ড বিক্রিও তাদের একটি পেশা। তাদের কাছে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন মাফকাঠির প্রয়োজন নেই। দুপাশ থ্রিপাশ হলেই চলে।

এখন আবার ব্যঙ্গের ছাতার মত অনলাইন মিডিয়া হচ্ছে। এরাও আইডি কার্ড দিচ্ছে কিন্ত সংবাদদাতাদদের বেতন দেয়ার কথা চিন্তাও করেনা তারা। আর বেতন দিবেই কেন? কার্ড পেলেই খুশী সংবাদদাতা। যদি কোন মিডিয়া থেকে আইডি কার্ড নেয়া যায় তাহলে কামাই করা কঠিন কাজ নয়। পুলিশ বা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে চাইলেই কাড়ি কাড়ি টাকা আসে। পুঁজি শুধু একটি ক্যামেরা বা এনড্রোয়েট মোবাইল, একটি বাইক ও একটি কাঁদ ব্যাগ। নিউজ লেখার যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। ফটোকপি, ফেসবুক থেকে অন্যের নিউজ আর ছবি কপিপেস্ট করে চুরি করে প্রতিদিন নিউজ নিজের নামে প্রকাশ করা যায়। প্রকাশিত সংবাদ পড়ার পাঠক না থাকলে সমস্যা নেই। চুরির নিউজ ফেসবুকে প্রকাশ করে বড় সংবাদিক হয়ে যাওয়া কোন বিষয়ই নয়। ইদানিং লক্ষ্য করছি অন্য উপজেলার বাসিন্দা বা গ্রামের কতিপয় অর্ধ শিক্ষিত যুবক সাংবাদিকতার আইডি কার্ড পেয়ে নিজকে জাহির করছে আমি সাংবাদিক। এমনসব পত্রিকা থেকে আইডি কার্ড আনছে আমার বাপদাদা চৌদ্দ গোষ্টিও এই পত্রিকার নাম শুনেনি।

এসব পত্রিকা কোথায় কখন প্রকাশ হয় তা আল্লাহতাআলা বলতে পারবেন। গ্রামে কিছু টাউট বাটপার বা প্রতারক আছে যারা এলাকায় দলাদলি সৃষ্টি করে ঝগড়া সংঘর্ষ বাঁধায়। এরা নিজেরা মামলা মোকাদ্দমা বা বিপদ থেকে বাঁচতে নামধারী সাংবাদিক হতে অখ্যাত মিডিয়া থেকে আইডি কার্ড আনছে। সাংবাদিক হলেই বাড়তি সুবিধায় পুলিশসহ প্রশাসনের সাথে সখ্যতা করা যায়, যা নব্য সাংবাদিকদের ধারনা। ভৈরবে লক্ষ্য করছি একটি পত্রিকার একাধিক সাংবাদিক। বিশেষ করে স্হানীয় পত্রিকাগুলিতে। আবার বাবা সাংবাদিক হয়ে ছেলেকে সাংবাদিক বানিয়েছে,। এর অর্থ আমি বুঝিনা। সাংবাদিকতায় কি মাসে লাখ লাখ টাকা রোজগার করা যায়? টাকা কামাতে পারলে বংশ পরায়ন সাংবাদিক হলে আমার আপত্তি থাকতনা। আমি হলফ করে বলতে পারি, মফস্বলে সাংবাদিকতা করে যদি অন্য ব্যবসা বা চাকরি না থাকে তবে সংসারে তিনবেলা ভাত জুটবেনা। তাহলে এপেশায় আসতে এত আগ্রহ কেন। আমার মনে হয় একমাত্র ধান্দাবাজি করতে। নতুন নতুন অখ্যাত পত্রিকার সাংবাদিক সৃষ্টির জন্য আমরা সিনিয়র সাংবাদিকরা দায়ী। দল ভারী করতে যাকে তাকে আইডি কার্ড এনে দিয়ে নামধারী সাংবাদিক বানানো হচ্ছে। আমাদের মধ্য কেউ কেউ সাংবাদিক সংগঠন বা নিজদের সমর্থক বৃদ্ধি করতে একাজটি করে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছে। কারন সাপকে দুধ কলা দিয়ে যতই খাওয়ান একদিন মালিককে ছোবল দিবেই । সাপ কখনও কারো পোষ্য প্রাণী হতে পারেনা। তবে আমি নতুন সাংবাদিক সৃষ্টির বিপক্ষে নই। সেটা গুনগত মান বজায় রেখে শিক্ষিতরা আসবে এপেশায়। লেখার অভ্যাস ও আগ্রহ থাকতে হবে। দুপাশ, থ্রিপাশ, ফাইফ পাশদের এজগতে আনা হলে তারা কি লিখবে? উচ্চারন, শব্দ ভুলেভরা নিউজ লিখবে। আমরা দেখছি এমনই হচ্ছে। আমার প্রশ্ন বেতন – ভাতা পাবেনা জেনেও কেন সাংবাদিক পেশায় আসবে বা আসছে। একজন মানুষের সংসারতো আছে। ধান্দিবাজি করে কতদিন চলা যায়। সাংবাদিকতায় এমন কি মধূ আছে, আমি বুঝতে পারিনা। ৩০ বছর আগে যদি আমি সাংবাদিক না হতাম তবে এখন আর এপেশায় আসতাম না। এখন নিজকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করি। এপেশাটাকে কিছু নামধারী সাংবাদিক নষ্ট বা ধ্বংস করে দিচ্ছে। আর কি বলব, আর কি লিখব।
#ভৈরবে #আমরা #যারা #সিনিয়র #সাংবাদিক #এবিষয়গুলি #নিয়ে #ভাবুন। ভৈরবে এখন সাংবাদিক সংখ্যা ৫০/৬০ জন। গত কয়েকদিনে আমি দেখলাম ডজন খানেক যুবক আইডি কার্ড এনে নিজকে সাংবাদিক দাবী করছে। ভৈরবের বাইরের কিছু ব্যক্তি আইডি কার্ড এনে ভৈরবের সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছে। শুনেছি মাদক কারবারী ও মাদকাসক্তরা সাংবাদিকতার আইডি কার্ড এনে নিজকে সাংবাদিক দাবী করছে। ইদানিং আরও দেখতেছি গ্রামের কতিপয় অর্ধ শিক্ষিত যুবক / ব্যক্তিরা আইডি কার্ড আনার প্রতিযোগীতায় নেমেছে। এদের রুখতে হবে। আমাদের সিনিয়রগন বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় এসে গেছে। আসুন আমরা ঐক্য গড়ে তুলি। তানাহলে এপেশাটা ভবিষ্যতে কলংকিত হয়ে যাবে। বিভেদ নয় ঐক্যে আসুন সবাই। আমার আজকের লেখাটি হয়তো অনেকের কাছে ভাল লাগবেনা। অনেকে আমাকে মন্দ বলবে, মনে মনে গালিও দিতে পারে। এতে আমি পরোয়া করিনা। যা বাস্তব তা বলতে বাধ্য হলাম। ভাল থাকুন সবাই। ধন্যবাদ।

লেখক-
আসাদুজ্জামান ফারুক
যুগান্তর ও যমুনা টিভি
ভৈরব প্রতিনিধি

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved Nayaalo.com 2020