1. NewsDesk@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. admin@nayaalo.com : Palash3700 :
  3. rakib@gmail.com : Admin : Rakib Musabbir
  4. bhairabkantho@gmail.com : saimur : rj saimur

বাংলা ভাষায় সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের পথিকৃৎ মওলানা আকরম খাঁর ১৫৩ তম জন্মবার্ষিকী আজ

  • আপডেট সোমবার, ৮ জুন, ২০২০

মুঃ মুস্তাকিম হুসাইন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনাধীন নিখিল ভারতীয় উপমহাদেশের একজন বাঙালি সাংবাদিক, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, বরেণ্য সাহিত্যিক এবং ইসলামী সাহিত্যের বিশেষ প্রজ্ঞার অধিকারী, বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদের প্রতিষ্ঠাতা মওলানা আকরাম খাঁ ১৮৬৮ সালের ৭ ই জুন ভারতের পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার হাকিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মওলানা আলহাজ্ব গাজী আব্দুল বারী খাঁ ও মাতার নাম রাবেয়া খাতুন।

হাকিমপুর গ্রামের মসজিদ ভিত্তিক মক্তবে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। তারপর তার পিতা স্থানাীয় এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করায়ে দেন। সেখানে পড়াশুনারত অবস্থায় ধর্মের প্রতি তার অপরিসীম আগ্রহের সৃষ্টি হয়। এর ফলে স্কুলের পাঠ চুকিয়ে তিনি ভর্তি হন কোলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায়। এখানে পড়াশোনারত অবস্থায় মওলানা আকরাম খাঁ সাংবাদিকতা পেশায় জড়িয়ে পড়েন। ফলে লেখাপড়ায় আর মনোযোগ দিতে পারেননি তিনি। ১৯১০ সালে দৈনিক খাদেম ও মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে নিজের জাত চেনান মওলানা আকরাম খাঁ। এরপর শুরু হয় সাংবাদিক জীবন। একাধারে পত্রিকার জন্য কাজ করতে থাকেন তিনি। তারপর ১৯২১ সালে বাংলা দৈনিক সেবক ও উর্দু জামানা প্রকাশ করেন মওলানা আকরাম খাঁ । কিছুকাল প্রকাশ বন্ধ থাকে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা। পুনরায় ১৯২৭ সালে আমার মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত একটানা মাসিক মোহাম্মদীর প্রকাশ অব্যাহত ছিল। বাংলা একাডেমি ও রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘরে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার কিছু সংখ্যা সংরক্ষিত আছে। ১৯৩৬ সালে সম্পুর্ন নিজস্ব মালিকানা ও তত্ত্বাবধানে মওলানা আকরাম খাঁ দৈনিক আজাদ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ বাংলা পত্রিকা প্রকাশ করেন। দৈনিক আজাদকে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা পত্রিকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দৈনিক আজাদ ছিল তখনকার সময়ের এদেশের মানুষের জন্য এক যুগান্তকারী ঘটনা। তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের উপর ব্রিটিশদের নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে একনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে দৈনিক আজাদ। সেই সময়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম লীগের সমর্থনে বিরাট একটা হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছিল। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে দৈনিক আজাদের বেশ কিছু সংখ্যা সংরক্ষণ করা আছে।

অনেক ছোট বয়সে মওলানা আকরাম খাঁ সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয়ভাবে জড়ান। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আবির্ভূত হন মওলানা আকরম খাঁ। তারপর ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ নামে রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মওলানা আকরাম খাঁ। মুসলিম লীগপর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেনে অল্প দিনেই ব্যাপক পরিচিতি পেয়ে যান তিনি। একদিকে সাংবাদিক ও অন্যদিকে রাজনৈতিক হিসবে তার অবস্থান শক্তিশালী হয়ে যায় এদেশের রাজনীতিতে। এরপর ধারাবাহিকভাবে ১৯১৯ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত তিনি খেলাফত আন্দোলন এবং অসহযোগ আন্দোলনের সামনে থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন । ১৯২০ সালে তৎকালীন ঢাকার আহসান মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত হয় খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল । এই কাউন্সিলের অন্যতম ভূমিকা পালন করেন তিনি। পরে সর্বসম্মতিক্রমে মওলানা আকরাম খাঁ নিখিল ভারত খেলাফত আন্দোলন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। এই কাউন্সিলে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত আন্দোলনের অন্যতম নেতা মওলানা আবুল কালাম আজাদ, মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী এবং মওলানা মজিবুর রহমান প্রমুখ। মওলানা আকরাম খাঁর প্রধানতম দায়িত্ব ছিল তুর্কি খেলাফত থেকে ফান্ড এদেশের খেলাফতের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা। ১৯২০ সাল থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত মওলানা আকরাম খাঁ নিখিল ভারতের বিভিন্ন স্থানে সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে খেলাফত এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন জমিয়ে তোলেন। এর মধ্যে ১৯২২ সালে হিন্দু মুসলিম ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টির জন্য মওলানা আকরম খাঁ চিত্তরঞ্জন দাশের স্বরাজ পার্টিকে সমর্থন দেন এবং একই ইস্যুতে ১৯২৩ সালে বেঙ্গল প্যাক্ট নামীয় চুক্তিতে সমর্থন দেন। একটানা আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯২৬ – ২৭ সালে সংঘটিত হিন্দু – মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও সমসাময়িক কিছু বিষয়ের কারণে মওলানা আকরম খাঁ ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে খৈ হারিয়ে ফেলেন এবং তিনি স্বরাজ পার্টি এবং নিখিল ভারতীয় কংগ্রেস থেকে সরে দাঁড়িয়ে পূর্ণ সময় সাংবাদিকতা শুরু করেন। একটা সময় তিনি পর্জা বা গ্রাম্য রাজনীতি শুরু করেন। গ্রাম্য রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে সক্রিয়ভাবে মুসলিম লীগের সাথে আবার ১৯৩৬ সালে যুক্ত হন। একটানা তিনি ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যান । ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজিত হয়ে গেলে তিনি পূর্বপাকিস্তানে চলে আসেন এবং ঢাকার বংশালে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এরপরও রাজনীতি ও সাংবাদিকতা একসাথে চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলন শুরু হলে মওলানা আকরাম খাঁ সরাসরি আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ১৯৫৪ সালে গণপরিষদ ভেঙে দিলে মওলানা আকরাম খাঁ রাজনীতি পুরোপুরি ছেড়ে দেন। তারপর আবার সাংবাদিকতায় আত্মনিয়োগ করেন তিনি। ১৯৬২সালে পাকিস্তান কাউন্সিল অব ইসলামিক আইডোলজি প্রতিষ্ঠা করা হলে সেখানে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে মওলানা আকরাম খাঁ পরিগনিত হন।

মওলানা আকরাম খাঁ ইসলামী সাহিত্যে বিশ কিছু সাহিত্যকর্ম সম্পাদন করে অমর হয়ে আছেন। বিশেষ করে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী গ্রন্থ ” মোস্তফা চরিত ” তাকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসিয়েছে। এছাড়াও মাসলা মাসায়েল সম্পর্কিত গ্রন্থ “সমস্যা ও সমাধান” তার অসামান্য কীর্তি। “আমপারার বাংলা অনুবাদ”, “মোস্তফা চরিতের বৈশিষ্ট্য”, “বাইবেলের নির্দেশ ও প্রচলিত খ্রীষ্টান ধর্ম”,
“মোছলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস”, “তাফসীরুল কোরআন(১-৫ খণ্ড)” “মুক্তি ও ইসলাম” প্রভৃতি রচনা পৃথিবীতে মওলানা আকরাম খাঁকে চিরঅমর করে রাখবে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হলে মওলানা আকরম খাঁর সৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৮১ সালে তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা মরোনোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রদান করেন
অসামান্য ও অসাধারন জীবনীর অধিকারী কীর্তিমান এই মহাপুরুষ মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ ১৮ আগস্ট ১৯৬৮ সালে মৃত্যুবরণ ঢাকার বংশালে আহলে হাদিস মসজিদে নামাজরত অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ( ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন )

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved Nayaalo.com 2020
Site Customized By NewsTech.Com