বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন

করোনা প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা দুর্গকে মূহুর্তেই কুপোকাত করতে পারে, মৃত্যুর পর করোনা পরীক্ষা ও সনাক্তকরণ

  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ২৬৪ বার পড়া হয়েছে

আব্দুল্লাহ্ আল মারুফ,চট্টগ্রাম বিভাগীয়প্রতিনিধি।।

লেখিকা
নাসরিন ইসলাম

সন্মানিত জ্ঞানী-গুনীজন, সূধীজন, সুহৃদ ও পাঠকবৃন্দ বিষয়টি কেউ অন্যভাবে নিবেন না। ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশাকরি। করোনা প্রতিরোধে নিন্মলিখিত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সন্মানিত কর্তৃপক্ষবৃন্দদের ভেবে দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

অনেকদিন হতেই করোনা নিয়ে বাংলাদেশে এর বিভিন্ন খবরের যে চিত্র আমায় ভীষনভাবে শংকিত করছে। তাহলো মৃত্যুর পর করোনা সনাক্ত হওয়া । ভাবছিলাম বেশ কটা দিন হতে, বিষয়টি নিয়ে লিখবো কি লিখবো না! অগত্যা আজ না লিখে পারলাম না। আমাদের দেশে করোনা সম্পর্কিত চিকিৎসা প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থে। বাংলাদেশের করোনা সংক্রমন রোধকল্পে আমার ক্ষূদ্র জ্ঞানে সর্বোচ্চ মনন ও ভাবনায়।

প্রায়ই খবরে দেখা যায় যে, রোগী বিভিন্ন রোগ নিয়ে হসপিটাল ডাক্তারের কাছে যান। চিকিৎসা পত্র অনুযায়ী চিকিৎসা চলতে থাকে হসপিটাল বা বাড়ীতে। অতঃপর মারা গেলে মৃত ব্যক্তির রক্ত নমুনা সংগ্রহ করে করোনায় সংক্রামিত ছিলো কিনা, তা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় যে সকল মৃতের দেহে করোনা ভাইরাস ছিলো প্রমানিত হলে, তার আশেপাশের স্থান বাড়ীঘর গুলি লকডাউন করা হয়।

আসলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা মুলক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার চেয়ে, পূর্বে প্রতিরোধ মুলক ব্যবস্থা নেওয়া উত্তম নয় কি?

মৃত্যুর পর মৃত্যের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা নিরীক্ষায় সন্ধান মিললো করোনা ছিলো । মনের কোনে স্বভাবতভাবে প্রশ্ন উঁকি দিতে পারে আমাদের, একজন মানুষ মারা গেলে পর এটা প্রমান করার প্রয়োজন কতটুকু যুক্তিঙ্গত? হ্যাঁ, লকডাউন করার জন্য, রোগী যে সকল এলাকায় চলাচল করেছে। সেই সকল মানুষের মাঝে এর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, সেই আশংকায় এই রোগ দ্রুত / ধীরে যেনো বিস্তৃতি লাভ না করতে পারে । তা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের ক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা অত্যাবশ্যক।

কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি একবার? আমরা যারা এই রোগ প্রতিরোধ ও সেবা কল্পে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত আছি। মৃত ব্যক্তি, বাড়ীর মানুষ সহ যাদের কাছে গেলো চিকিৎসা নিতে। সে সকল ডাক্তার নার্স সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মাচারী, যারা তার সাথে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদান করছিলো এবং ঐ হসপিটালের যে ওয়ার্ডে সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি ছিলো। সেই ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীদের মাঝে ইতিমধ্যে ভাইরাস গুলো ছড়িয়ে পড়েছে ঐ ভাইরাস সংক্রমনের ধরণুযায়ী! তারাও অনায়াসে সংক্রমিত হচ্ছে প্রতি মূহুর্তে। যা আমরা মৃত্যুর পর সনাক্ত করছি!

আরো একটু গভীর ভাবে অনুধাবন ও পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঐ সকল সন্মানিত ডাক্তার নার্স ও হসপিটালে কর্মরত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দ্বারা তার পরিবারে ছড়িয়ে পড়ছে নিজেদের অজান্তে। তথাপি তারা প্রতিনিয়ত কাজের স্বার্থে এবং জীবন জীবিকার তাগিদে যতদূর চলাফেরা করছেন। সেখানেও তাদের শরীরে বহনকারী ভাইরাস দ্বারা পলকেই সংক্রমিত হচ্ছে শত সহস্র মানুষ!

অাবার এমনও তো হতে পারে যে, রোগীটির শরীরে হয়তো আদৌ ঐ ভাইরাস বহন করছিলো না। অন্য কোন সাধারণ রোগ ছিলো। সেই রোগের চিকিৎসা করলেই রোগ নিরাময় হতো। কিন্তু আমাদের অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য হসপিটালে করোনা ভাইরাস বহনকারী অন্য কোন রোগী হতে সে সংক্রমিত হয়েছে। যা আমরা কেউ আদৌ জানিনা। কারণ করোনা উপসর্গ গুলোর দেখা মেলেনি। বিধায় পরীক্ষা করার প্রয়োজন বোধ করিনি। ফলে সাধারণ জ্বর কাশি নিউমোনিয়া ম্যালেরিয়া ভেবে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। আর মৃত্যুর পর নমুনা সংগ্রহ করে রেজাল্ট পাচ্ছি করোনা।

ততক্ষণে ফ্রন্ট লাইনের সন্মানিত যোদ্ধাবৃন্দ ডাক্তার নার্স ও চিকিৎসা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মীচারী উক্ত জীবানু বহনে কুপোকাত! অথচ যদি আমরা হসপিটালে যে কোন ধরনের রোগী আসুক না কেনো, ইমার্জেন্সীতে তাদের করোনা পরীক্ষা করার জন্য কোন একটি আলাদা রুমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকে। এমতনস্থায় পরীক্ষা করার পর করোনা সনাক্ত হলে, তাকে যে হসপিটাল গুলোতে করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে দ্রুত স্থানান্তর করে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করাই উত্তম নয় কি? আর যাদের করোনা সনাক্ত হয়নি তাদের ঐ হসপিটাল গুলোতে চিকিৎসা দিয়ে চললো । তাহলে এমন দ্রুত সংক্রমন হতে ফ্রন্ট লাইনের যোদ্ধা সহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেকেই মুক্ত থাকবেন।

কথায় আছে, ‘সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের দশ ফোঁড়’। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালী, আমেরিকার মত পৃথিবীর সর্ব উন্নত দেশ গুলোর একটু ভুলের কারনে বেগতিক অবস্থা। উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিনিয়ত হাজার হাজার লোক মৃত্যবরণ করছে। কিন্তু সময় মত যদি এমন ছোটখাট বিষয়ে অনিচ্ছাকৃত ভুল বা অবহেলায় পদক্ষেপ না নেয়া হয়। তাহলে আমাদের মত উন্নয়নশীল ঘনবসতিপূর্ণ দেশে আরো ভয়াবহ শোচনীয় করুন পরিনতি বিরাজ করতে পারে। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো ভেঙ্গে পড়তে পারে। তখন বেসামাল এবং দিশাহারা হয়ে পড়বে দেশ ও জাতি এই দূর্যোগ মহামারী মোকাবেলায়।

এভাবেই অনিচ্ছাকৃত ভুল বা বুঝতে না পেরে অবহেলায় প্রয়োজনীয় ছোটখাট বিষয়ে পদক্ষেপ না নিয়ে, আমরা সহস্র মানুষ বাংলাদেশে করোনা নামক দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হতে পারি, প্রতি মূর্হুর্তে প্রতিনিয়ত নিজের অজান্তে অনায়াসে।

যে কোন রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সেবা পেতে হলে, অন্যতম পদক্ষেপ হলো (ফ্রন্ট লাইনের যোদ্ধা) ডাক্তার নার্স হাসপাতাল গুলোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ করোনা সহ অন্য কোন সংক্রমনের হাত হতে রক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা করা। শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ ও সবল রাখার প্রশ্নে।

সে সকল ফ্রন্ট লাইনের যোদ্ধারা জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সেবা কালীন সময়ের পর বাসায় না পাঠিয়ে, ভিতরে সুন্দর একটি পরিবেশে সরকারী অনুদানে খাওয়া ও থাকার সুব্যবস্থা করা এবং তাতে তাদের পরিবার সহ যাতায়াতকালে অন্যান্যরা এই সংক্রমনের হাত হতে রক্ষা পাবে।

সকল আইন শৃংখলা বাহিনী যারা এই দূর্যোগকালীন সময়ে জাতীর নিরাপত্তার স্বার্থে কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

তাদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন সরকারী অনুদানে নিরাপত্তা সহ তাদের মানসিক ও শারীরিক ব্যবস্থা জোরদার করা।

আপদকালীন সময়ে তাদের আলাদা ভাতার ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি তাদের পরিবার পরিজন এর সরকারী উদ্যোগে তত্বাধবান করা। কারণ পরিবারের প্রধান কর্তার অনুপস্থিতীতে তাদের জীবন-যাপনে যেনো ব্যাঘাত না ঘটে। তাতে করে তারা নিশ্চিন্তে সেবা কাজে আন্তরিকভাবে নিবেদিত হবেন বলে আমার ধারণা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved Nayaalo.com 2020