মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন

বিদায়ের এক বছর পরও সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকিরের নাম স্মরণীয় হয়ে আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মানুষের হৃদয়ে

  • আপডেট : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৫২ বার পড়া হয়েছে

পূর্নিমা হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার।   

সময় অনন্ত,জীবন সংক্ষিপ্ত। কিন্তু সেই সংক্ষিপ্ত সময়ের জীবনে মনিরুজ্জামান ফকির তার মহৎ কর্মের মধ্যে দিয়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মানুষের হৃদয়ে….

সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকিরকে নিয়ে লিখেছেন আশুগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক তানভীর হাসান তৌফিক।

তিনি বলেন,
মনিরুজ্জামান ফকির! অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এক সময় কর্মস্থল ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল, নাসিরনগর, আশুগঞ্জ তিন থানা মিলে গঠিত সরাইল সার্কেলে। চাকুরীর সুবাদে বর্তমানে মাদারীপুরে কর্মরত আছেন। মনিরুজ্জামান ফকির নামটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণদের কাছে তিনি যতটা না একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে তার চেয়েও একজন তারুণ্যের বন্ধু বলে বিবেচিত নাম।

‘মোঃ মনিরুজ্জামান ফকির’ নামটি শুনলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এমন কোন এলাকার মানুষ নেই যে তাকে চেনেন না। অন্যদিকে অসহায় নিযার্তিত নারীদের কাছেও যেন আইনী সেবা পাওয়ায় আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সাধারন মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় যেন নিজের নামটি মানব সেবার ছোয়ায় স্বর্ণক্ষরে গেঁথে দিয়েছেন। চাকুরীর সুবাদে বর্তমানে তিনি মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) হিসাবে নিয়োজিত আছেন। সেখানে গিয়েও তাঁর কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন।

গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে হয়েও কিভাবে তিনি মানুষের হৃদয় জয় করতে পেরেছেন এত সহজে সেটাই যেন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার থাকাকালীন তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণেই তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতনের মত স্পর্শকাতর বিষয় গুলোতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কারণেই তিনি সাধারনের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পেরেছিলেন। তরুণরা ছিল তার খুবই ভক্ত। তারুণ্য এমন করে তাকে টানত যে, যে কোন কর্মদিবসে তার কার্যালয়ের সামনে তরুণদের বিশাল লাইন দেখা যেত।তরুণরা যে কোন সমস্যায় এই সাবেক সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে আসলেই সকল সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা নিতেন। সমস্যা সমাধানের আশায় দূর দুরান্ত হতে ছুটে আসতো ভূক্তভোগীরা। ক্লিন সরাইল, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ আলীর চিকিৎসা ও তরুনদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক কাজের মাধ্যমে সবার নজর কাড়েন আর এ জন্যই তরুণদের ভিড় লেগে থাকতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সার্কেল অফিসে।

একজন সৎ ও আদর্শবান পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার কারণে তিনি ছিলেন জনসাধারনের কাছে একজন অসাধারন ব্যাক্তি। একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার হয়েও তিনি সমাজের সাধারন মানুষের সাথে আস্থা ও ভরসার সম্পর্ক তৈরি করেন। কর্তব্যের কাছে তিনি ছিলেন অনঢ়। শুধু তাই নয় মাদক ও বাল্যবিবাহ বিরোধী বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করে বেশ প্রশংসা কামিয়েছেন। তার কর্মকান্ডে জনগন যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পেরেছেন। অনেক জটিল সমস্যা গুলোর তিনি সমাধান দিয়েছেন বিচক্ষনতার সহিত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সকল শ্রেণীর মানুষের নয়নের মণি মোঃ মনিরুজ্জামান ফকির জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছিলেন মাদকের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদ দমনেও তার ভূয়সী প্রশংসা করছেন সাধারন জনতা।

এছাড়া শিশু রিফাত হত্যা সহ আরো অনেক চান্চল্যকর হত্যাকান্ডের আসামীদের তিনি সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনেন। চুরি, ১৪৪ ভরি স্বর্ন ছিনতাই, খুনসহ ডাকাতীর আসামীদের সনাক্ত করে তিনি এলাকায় স্বস্তি এনে দেন। তার সময়ে একাধিক ডাকাত বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। অপরাধের বিরুদ্ধে আপোষহীন মনোভাবের কারনে অনেক অপরাধী এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। এছাড়াও গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক দিনের জমিজমার বিরোধিতা নিরশনে ও মোঃ মনিরুজ্জামান ফকির এর পদক্ষেপ ছিল প্রশংসনীয়। বিরোধিতা নিরশন করে পরিবার গুলোকে মিলিয়ে দিয়েছেন। বহু বছরের শত্রুতাকে বন্ধুত্বে পরিনত করতে পেরেছিলেন তিনি। যে বিরোধ ৩৪ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি তা তিনি অল্প দিনেই সমাধান করে দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সার্কেলের তিনটি থানায় যেন পুলিশিং সেবা ছিল শতভাগ। এছাড়া বিভিন্ন কর্মদিবস গুলোতে সকাল থেকেই শত শত নারী, শিশুদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সার্কেল কার্যালয়ে জমায়েত হতে দেখা যেত। স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যেন মাদকে আকৃষ্ট না হতে পারে সেদিকে ছিল তার তীক্ষ নজর। সময় পেলেই স্কুলে ঢুকে পড়তেন। মাদক, বাল্যবিবাহ ও জঙ্গিবাদ বন্ধে ছাত্র ছাত্রীদের উদ্ভুদ্ধ করা ছিল তার অসাধারন উদ্যোগ। মাদারীপুরে গিয়েও তিনি তার কাজের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখেছেন। মাদারীপুরে বর্তমানে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও গণপরিবহন বন্ধে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

কে এই তারুণ্যের বন্ধু হিসেবে বিবেচিত মোঃ মনিরুজ্জামান ফকির? চলুন জেনে নেই।
ফরিদপুর জেলার ভাংগা উপজেলার কলেজপাড়ের ইসরাইল ফকির এর সন্তান তিনি। ৪ ভাইবোন এর মধ্যে প্রথম মেধাবী সন্তান মোঃ মনিরুজ্জামান ফকির। ২০১২ সালের ৩০তম ব্যাচ বিসিএস পাস করে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে সহকারী পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদান করেন। জয়পুরহাট, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাজ করেন তিনি। তারপর পদোন্নতি পেয়ে মাদারীপুরে অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার হয়ে পুনরায় মাদারীপুর যোগদান করেন। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে পুলিশ বিভাগে প্রশংসিত হন। তার ফলস্বরূপ ২০১৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পিপিএম (সেবা) পদকে ভূষিত হন।

নানা গুণে গুণান্নিত এএসপি মোঃ মনিরুজ্জামান ফকির এর তরুণদের নিয়ে আলোচনা ও বক্তৃতা দেওয়ার কন্ঠও চমৎকার। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও শিক্ষামূলক বক্তৃতা দিয়ে তরুণদের মনে সামনে এগিয়ে চলার সাহস যুগিয়েছেন।
পরিশেষে তানভীর বলেন,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া মানুষের হৃদয়ে মনিরুজ্জামান ফকির স্যার চির স্মরণীয় হয়ে ছিলেন,আছেন এবং থাকবেন।
আপনার ওনার জন্য সবসময় দোয়া করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved Nayaalo.com 2020