সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

‘No Have’ (নো হ্যাভ)- দিনার মোহাইমিনুল!

  • আপডেট : শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

দিনার মোহাইমিনুল।।

‘No have(নো হ্যাভ)’ কিছু একটা পন্য কোন দোকানির কাছে না থাকলে থাইল্যান্ডের প্রত্যেক দোকানি-ই এই একই উত্তর দেয়। ইন্ডিয়ানদের হিংলিশের মত থাইল্যান্ডের থাইলিশের ও কিছু বিশেষ ধাচ দেখা যায়। বাংলাদেশের মত ‘Common Mistakes in English’ জাতীয় বই লেখার মত পেডান্টিক ব্যাক্তিবর্গ এদেশে নেই বলে মনে হলো, কারণ যে দু-একজন ভালো ইংরেজি বলে তারাও এ সব নিত্য-নতুন ইংরেজি শব্দ নিত্যদিন বলে সমৃদ্ধ ইংরেজি ভাষা মহাসমৃদ্ধ করছে, কোন পন্ডিতি নেই। No have কিছুটা গানের ভাষা বা সাহিত্যের ভাষাও বলা যায়! যেমন- tell me not…hold me not…টাইপের;), অথবা ফুলের নামের অনুকরণে Forget-me-not ….থাই ভাষার কিছুই না জেনে সেখানে ঘুরতে এসেছি। মি:বিন তার ‘হোলি ডে’ মুভিতে ইউরো ট্যুর এর ক্ষেত্রে শুধু ‘উই’ আর ‘নো:’ জেনে ফ্রান্স জয় করেছিল; আমি এখানে তাও জানি না। আমার হালকা পাতলা ফ্রেন্স, আর ডোমিনিক্যান রিপাবলিকে শেখা টুকটাক স্প্যানিশ যখন কোনই কাজে আসে না তখন ইংলিশ এর পেছনে একটু নেকি সুরের ধাক্কায় পার হতে চেষ্টা করি! অথচ ছোট বেলায় যখন পড়েছি থাইল্যান্ডের আরেক নাম শ্যামদেশ, সুবর্নভূমি তখন ভেবেছিলাম এদের ভাষা বাংলা না হলেও বাংলা ভাষার ভাই বোন কিছু একটা হবে।
থাইল্যান্ডের বড় শো-রুম গুলোতে ভুলে আপনি কোন মেয়ের শরীরে হাত দিয়ে ফেলতে পারেন, বিশেষ করে কেউ যদি মেয়েদের জামাকাপড় কিনতে গিয়ে ডলের গায়ে পড়া জামা পরোখ করে দেখতে যান। আপনার ই বা কি দোষ, প্রত্যেকটি ডল এর মত চেহারার দোকানি মেয়েই যদি ডলের পাশে চুপচাপ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকে আপনি তো ডল মনে করতেই পারেন। আপনার একটু নাড়াচাড়াতে ই কোন একটি ডল নড়ে চড়ে উঠে বলবে,”সদিখা, হেলো, হাউ সাআ-আ-ইজ?” তাদের কথার মধ্যে শেষ শব্দে নেকি সুরেলা একটা টান লক্ষণীয়; যেন একটা অনুযোগ শুনাচ্ছে। এই টানটা সবচেয়ে বেশি কমন যে শব্দে আপনাকে শুনতে হবে তা হলো মাসাজ— মাসা-আ আ আ-জ (ক্রমশ সুর উপরে….)! কারণ, থাইল্যান্ডে রাস্তার পার্শ্বে যত দোকান আছে তার ৩০ শতাংশ দোকানই মাসাজ পার্লার। সর্বোচ্চ মেকাপে সুসজ্জিত কতগুলি একই রঙের পোষাক পরিহিতা ডল চেহারার মেয়ে প্রত্যেক মাসাজ পার্লারের সামনে বসে থাকে। দৃশ্যমান কাচের দেয়ালের মধ্যে চলছে ম্যাসাজ। কত প্রকারের মাসাজ আছে তা কোন থাইও বলতে পারবে না। জীব-জন্তু, ফল-ফলাদি, রঙ, মাছ, অংগ-প্রত্যাংগ- সব নামেই ম্যাসাজ আছে! আর কেউ সামনে দিয়ে হাটলেই সব পুতুল সমস্বরে মৃদু চিৎকার দেবে—- ম্যাসা–আ-আ-আ-জ! এদের দিনে যতবার এইটা বলে গ্রাহক আকর্ষণ করতে হয় সে বিবেচনায় টেপ রেকর্ডারে রেকর্ড করে সুইচ টিপলে আরো মনযোগ দিয়ে সাজুগুজু-খাওয়াদাওয়া ও ফেসবুকিং করতে পারত (এদের কমন কাজ)। ম্যাসাজের ক্ষেত্রে একটা মজার চিন্তা মাথায় ঘুরছে, ফিস ম্যাসাজ এর ক্ষেত্রে ছোট ছোট ফিস সমৃদ্ধ কাচের পাত্রে গ্রাহকের পা ডুবিয়ে মাছ দিয়ে পায়ে ঠোকাঠুকি করিয়ে আনন্দ/শিহরণ দান করা হয়, আমার চিন্তা হলো টাইগার ম্যাসাজের ক্ষেত্রে কি করা হয়! এটা দেখি নি। আবার ইয়েলো ম্যাসাজের নামের সাথে কি সামঞ্জস্য থাকতে পারে বোঝা গেল না। মার্কেটগুলোতে হেটে পায়ে ব্যাথা হলেও ম্যাসাজ নেয়া হলো না….থাইল্যান্ড ভ্রমন বৃথা! এখানকার মিউজিক ভালো লেগেছে, বিশেষ করে মিউজিকের মধ্যে বিটের বদলে টুংটাং যে শব্দটা দেয় তা শুনলে মনে হয় পাহাড়ের উপরে বসে বাতাসে দোলা নিক্কনের আওয়াজ শুনছি। বিখ্যাত থাই স্ট্রিট ফুডের গন্ধ আমার মত শুটকি বিদ্বেষী কারো ভালো লাগার কথা না। তাদের ভ্রাম্যমান দোকানে সাজিয়ে রাখা সব কাচা সামুদ্রিক মাছ ও জীব-জন্তু তারা নিমিষেই প্রায় তেল ছাড়া ও কয়েক প্রকার শুঁটকির গন্ধ সমৃদ্ধ সস সহযোগে রান্না করে, পুড়িয়ে বা ভেজে দিতে পারে। আমরা অসুখ বিসুখে পড়া রোগীদের যে জাউভাত খাওয়াই সেটাই মূলত তাদের প্রিয় প্রধান খাবার- বয়েলড রাইস; তবে আমাদের মত স্টিমড রাইসও তারা খেতে পারে।
থাইল্যান্ডের ফল-ফলাদি খুবই বাহারি, সুমিষ্ট ও সস্তা।

লেখক- দিনার মোহাইমিনুল,
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার,
পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা (টিআর)।

(লেখকের ফেসবুক আইডি থেকে সংগ্রহীত)।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved Nayaalo.com 2020