1. NewsDesk@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. admin@nayaalo.com : Palash3700 :
  3. rakib@gmail.com : Admin : Rakib Musabbir
  4. bhairabkantho@gmail.com : saimur : rj saimur

কতিপয় যুবলীগ নেতাদের বহু অভিযোগ অনিয়ম

  • আপডেট শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০

অনলাইন ডেস্ক।।

সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট একটি বহুল আলোচিত নাম। ১৯৭২ সালে এটি প্রথমে চট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরে এটি ২০০২ সালে পাকা দালানে পরিনত করে এটির নামকরণ করা হয় “সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট ”। এটি গুলিস্তান এলাকায় অবস্থিত। এ মার্কেটটি বর্তমানে  ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অর্ন্তভূক্ত। যার পরিচালনায় থাকার কথা দোকান মালিক সমিতির। কিন্তু না — এটি দখলে রেখেছে কিছু অসৎ যুবলীগ নেতা কর্মীগং।

শাহাবুদ্দিন-আহাদ বাপ্পি  চক্রের হাত থেকে মুক্তি চায় বর্তমান সময়ের শান্তিকামী ব্যবসায়ীমহল।

রাজনীতিতে চির বৈরীতা থাকলেও লুটপাটে যেন হরিহর আত্মা। সরকারি মার্কেট দখলে রেখেই চালাচ্ছে লুটপাটের মহোৎসব। তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে কয়েক শ’ব্যবসায়ী। এ চিত্র নগরীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটে। শুধু এ মার্কেটে নয়, আশপাশের আরো কয়েকটি মার্কেটেও তাদের কালোথাবা বিস্তৃত। মার্কেট দখল আর চাঁদাবাজির মাধ্যমেই এদের কেউ কেউ ফুটপাতের হকার থেকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ আর অনুসন্ধানে এ ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।

জানা গেছে, সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটের খোলা স্পেস, বারান্দা, করিডর, টয়লেট, সিঁড়ি,মসজিদ, ছাদ, জেনারেটর রুম ও পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে দোকানঘর করা হয়। শুধু তাই নয়, মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডে পার্কিংয়ের জায়গায় কয়েকশ’দোকান বানিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে যুবলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন, আহাদ বাপ্পি, মাঈনুল ইসলাম দুলাল(সাবেক সহ-সভাপতি ২০নং ওয়াড যুবলীগ) ,বাপ্পী হাসান মুরাদ (সাধারণ সম্পাদক ৩২নং ওয়াড যুবলীগ) ,   এবং তার সহযোগী বেশ ক’জন নেতা এসব অপকর্মে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। আরো মজার বিষয় হচ্ছে, মার্কেটটি ৩৪ নং ওয়ার্ড এলাকাভূক্ত। অথচ ২০ নং ওয়ার্ড যুবলীগের বহিস্কৃত সাবেক সভাপতি হয়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছে শাহাবুদ্দিন ওরফে হাজী শাহাবুদ্দিন। অবশ্য শাহাবুদ্দিনের যুবলীগে অনুপ্রবেশ এবং নেতৃত্বে আসা নিয়েও রয়েছে চমকপ্রদ তথ্য।

জানা গেছে, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধাক সরকারের আমলে গুলিস্তানের ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করতেন মো. শাহাবুদ্দিন। সে সময় জড়িত ছিলেন ইউনিট যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে।


এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে হাতে আলাদীনের চেরাগ পেয়ে যান শাহাবুদ্দিন। একজন প্রভাবশালী যুবলীগ নেতার হাত ধরে যুবলীগের মিছিল-মিটিংয়ে যোগ দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করে তিনি ২০ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন । এর পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। গুলিস্তান সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট, আদর্শ মহানগর মার্কেটসহ আশপাশের অধিকাংশ মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেন শাহাবুদ্দিন। মার্কেটগুলোয় অবৈধ দোকান স্থাপনসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে থাকেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির পদ পান, শাহাবুদ্দিন সে থেকে হয়ে যান হাজী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়, যুবলীগের প্রভাব খাটিয়ে শাহাবুদ্দিন এখন শত কোটি টাকার মালিক। তার নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া ও বঙ্গবাজারের পাঁচটি মার্কেট। গুলিস্তানের ব্যবসায়ীদের কাছে যুবলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন এক মূর্তমান আতঙ্কের নাম। বিভিন্ন মার্কেটের অবৈধ জায়গায় দোকান স্থাপন করে এক একটি দোকান তিন-চারজনের কাছে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে এ চক্রের বিরুদ্ধে। প্রভাবশালী হওয়ায় শাহাবুদ্দিনের কাছে কেউ টাকা ফেরৎ চাইতে সাহস পান না। শূন্য হাতে গুলিস্তানের ফুটপাতে ব্যবসা করা শাহাবুদ্দিন এখন জিরো থেকে হিরো। কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেন গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া ও বঙ্গবাজারের পাঁচটি মার্কেট থেকে। উল্লেখিত মার্কেটগুলো ছাড়াও বিভিন্ন মার্কেটের অবৈধ জায়গায় দোকান স্থাপন করে তিন-চারজনের কাছে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।


জনশ্রুতি আছে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রের আলী আহম্মেদের ডান হাত হওয়ায় ওই ক্লাবের ক্যাসিনো কারবারের টাকার ভাগও যেত শাহাবুদ্দিনের পকেটে। প্রতিদিন শাহাবুদ্দিন ২০ হাজার টাকা পেতেন মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রের ক্যাসিনোর বোর্ড থেকে। শাহাবুদ্দিন,আহাদ বাপ্পি,মাঈনুল ইসলাম দুলাল(সাবেক সহ-সভাপতি ২০নং ওয়াড যুবলীগ) ,বাপ্পী হাসান মুরাদ (সাধারণ সম্পাদক ৩২নং ওয়াড যুবলীগ) , নোয়াখালী ফিরোজ। এরা সবাই  ক্যাসিনোর শুদ্ধি অভিযানে  অভিযুক্ত  মাইনুদ্দিন রানা ও রেজাউল করিম  রেজার নিয়ন্ত্রণে  আছে।

অপর এক অনুসন্ধানে জানা যায়, সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটটির  নিয়ন্ত্রণ যুবলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন ও তার সহযোগিদের  হাতে। গুলিস্তানের প্রাণকেন্দ্রে নিয়ম মেনে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রেখে মার্কেটটি নির্মাণ করা হলেও শাহাবুদ্দিনের দখলদারিত্বের কারণে মার্কেটটির সেই জৌলুস হারিয়ে গেছে। ১২০৯টি বৈধ দোকান থাকলেও শাহাবুদ্দিন সেখানে আরও ৭ শতাধিক অবৈধ দোকান বসিয়ে বিক্রি করেন। বলাবাহুল্য, এ মোটা টাকার কানাকড়িও সিটি করপোরেশনের কোষাগারে জমা হয়নি। দোকান প্রতি ১০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ২২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন তিনি। সিটি করপোরেশনের অনুমোদন ছাড়া এসব দোকান নির্মাণ করে কেবল সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট থেকেই শাহাবুদ্দিন হাতিয়ে নেন প্রায় ৮০ কোটি টাকার বেশি। দোকান বিক্রির এ টাকার ভাগ ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের প্রভাবশালী নেতাসহ সিটি করপোরেশনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটটি চারতলা হলেও সিটি করপোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার  যোগসাজশে আরও একতলা নির্মাণ করেন শাহাবুদ্দিন। এ ছাড়া মার্কেটের প্রতিটি ফ্লোরের বিভিন্ন কমন স্পেস, ফ্লোরপ্রতি দুটি করে টয়লেট, ওজু করার স্থান ছিল। কিন্তু এসব ভেঙে নির্মাণ করা হয় দোকান। ব্যবসার স্বার্থে মার্কেটটির ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করেন ১২টি এস্কেলেটর (চলন্ত সিঁড়ি)। শাহাবুদ্দিন এসব সিঁড়ি ভেঙে ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করে দেন। বেসমেন্টের জেনারেটর রুমটিও দোকান বানিয়ে বিক্রি করে দেন তিনি। এখানেই শেষ নয়। ওযুখানা ও মসজিদ ঘড় বাদদিয়ে খাবার হোটেল তৈরি করেন। তার বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ট্রান্সফরমারও বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গার্ডরুম, বৈদ্যুতিক সুইচরুম, প্রতি তলায় সিঁড়ির পাশে ও নিচে দোকান তৈরি করেন তিনি। এ ছাড়া লিফটের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয় বৃহৎ আকারের হোটেল। বেসমেন্টের ওয়াটার রিজার্ভয়েরের স্থানেও দোকান তৈরি করেন তিনি। সব মিলিয়ে অবৈধভাবে সাত শতাধিক দোকান নির্মাণ করেন তিনি। অভিযোগে আরো জানা যায়, নতুন করে নির্মিত এসব দোকান সিটি করপোরেশন থেকে স্থায়ী বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে গত বছর মেয়রের নামে দোকানপ্রতি ৬ লাখ টাকা নেন শাহাবুদ্দিন। এভাবে তিনি ৩৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা তোলেন। ওই সময় মার্কেটের দোকানের মূল মালিকরা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কেবল সুন্দরবন স্কোয়ার মার্কেটই নয়; গুলিস্তানে মহানগর মার্কেট, আদর্শ মার্কেটের অলিখিত নিয়ন্ত্রকও যুবলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন। প্রতি মাসে তিনি এসব মার্কেটের দোকান থেকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা উত্তোলন করেন। এ ছাড়া মার্কেটের বিভিন্ন ফাঁকা স্থানেও দোকান বানিয়ে তা বিক্রি করেন শাহাবুদ্দিন। সিটি করপোরেশন এসব দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মহানগর মার্কেটের এক দোকানদার বলেন, শাহাবুদ্দিনের নিয়ন্ত্রণে এ মার্কেট। তিনি যার কাছে ইচ্ছা তার কাছেই দোকান বিক্রি করেন। আবার কেড়ে নিয়ে একই দোকান অন্য কারও কাছেও বিক্রি করে দেন।

জানা যায়, অভিনব উপায়ে শাহাবুদ্দিন এসব মার্কেট দখল করেন। প্রথমে তিনি তার অনুগতদের দিয়ে মার্কেটের একটি পাল্টা কমিটি গঠন করেন। যদিও মাকের্টের কমিটির সদস্য হতে হলে প্রত্যেকের নিজস্ব দোকান থাকতে হয়। কিন্তু তার কমিটির সদস্যরা দোকানদার না হয়েও কমিটির সদস্য হয় এবং পেশিশক্তির জোরে আসল কমিটির নেতাদের মার্কেট থেকে বের করে দেন শাহাবুদ্দিন। পরে নিজের অনুগতদের নামে দোকান বরাদ্দ দিয়ে নিজেই মার্কেট পরিচালনা করেন।

অনুসন্ধানে  আরো জানা যায়,২৫ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে  সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট ব্যবসায়ীদের ওপর যুবলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন আহমেদের ক্যাডার বাহিনী হামলা করে। এই ঘটনায় সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম মামুন (৪৮)সহ ৫ জন আহত হন। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই মার্কেটের ভেতরে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিষয়ে গুলিস্তান সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক দৈনিক এই আমার দেশ কে  বলেন, ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা শাহাবুদ্দিনের নির্দেশে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। শাহাবুদ্দিনসহ দক্ষিণ সটি কর্পোরেশনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাদ বাপ্পিসহ ৬০/৭০ জন ক্যাডার হঠাৎ সমিতির অফিসে হামলা চালায়। এসময় মার্কেটের ১৫ থেকে ১৬ জন ব্যবসায়ী তাদের হামলায় আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, যুবলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন একজন দখলবাজ। সে  মার্কেট দখল করতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, অবৈধ উপায়ে এক দশকেই শাহাবুদ্দিন শত কোটি টাকার মালিক বনেছেন। তিনি বর্তমানে বসবাস করেন তানাকা টাওয়ারের নিজ ফ্লাটে। তাছাড়া সেগুন বাগিচাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে তার আরও একাধিক ফ্লাট রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর শাহাবুদ্দিন এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা কিছুদিন গাঢাকা দিয়ে থাকেন। অভিযান শিথিল হলে সদর্পে এসে পুনরায় অপকর্ম শুরু করেন। ভুক্তভোগীরা শাহাবুদ্দিন চক্রের হাত থেকে ব্যবসায়ীদের রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নগর পিতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

কিন্ত এ বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে যেকোন মূহুর্তে অবৈধ সম্রাজ্য গুড়িয়ে দিতে প্রশাসন তৎপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved Nayaalo.com 2020
Site Customized By NewsTech.Com